রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
তেহরান ও ওয়াশিংটন: পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ফের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই এলাকায় মার্কিন রণতরী মোতায়েন ও তেলের ট্যাংকার পাহারার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরান সাফ জানিয়েছে, তারা মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং তাদের জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে।
শনিবার (০৭ মার্চ ২০২৬) ইরানের শক্তিশালী আধা-সামরিক বাহিনী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র আলি মোহম্মাদ নাইনি এক কড়া বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন। ওয়াশিংটনকে কোনো প্রকার হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি ১৯৮৭ সালে মার্কিন সুপারট্যাঙ্কার ‘ব্রিজেটন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও জ্বালানি পরিস্থিতি
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় কঠোর অবস্থান জানান। তিনি ঘোষণা করেন, মার্কিন নৌবাহিনী এখন থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে।
ট্রাম্পের দাবি:
আমেরিকার সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ। চলমান সংঘাত শেষ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে তেলের ট্যাংকারগুলোর জন্য বিশেষ বিমা সুবিধা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উত্তপ্ত সমুদ্রপথ ও পাল্টাপাল্টি হামলা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ‘প্রাইমা’ নামক একটি মাল্টা-পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরান।
আইআরজিসি জানায়, বারবার সতর্কবার্তা এবং যাতায়াত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় জাহাজটির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই অঞ্চলে অন্তত নয়টি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে।